কর্মীদের জন্য আয়েশের দুর্গ বানালেন মালিক

46

স্বার্থের খাতিরে সব মালিকই নির্দয়। মুনাফাই এদের কোনো লক্ষ্য। যদিওবা কারো প্রতি এরা সদয় হয়, তাও ওই মুনাফার জন্যই। যতটা পারা যায় শ্রমিক চুষে সম্পদের পাহাড় বানানোর প্রবণতা থাকে এদের, থাকে না শুধু সাধারণ্যের সহজাত দয়া-মায়া। ন্যায্য মজুরির কথা না হয় নাই টানলাম, প্রাপ্য প্রশংসাও করতে জানে না এরা।

এর ব্যতিক্রম খুব কমই দেখা যায় বাস্তবে, আর সেই বিরল ব্যতিক্রমের নায়ক মানি ডট কো ডট ইউকের প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস মর্লিং। তিনি তিন মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৬ কোটি) ব্যয় করে তার কর্মীদের জন্য দুর্গের মতো ভবন নির্মাণ করেছেন। এখানে সিনেমা দেখার পাশাপাশি বিনা খরচে খানাদানা ও আনন্দ-উল্লাস করতে পারেন কর্মীরা।

সম্প্রতি এই ওয়েবসাইটের প্রধানকে ‘ব্রিটেনের সেরা মালিক’-এর উপাধি দেওয়া হয়েছে। মর্লিংয়ের ইচ্ছা ছিল, নিজের দফতরে কর্মরত প্রায় ৫০ কর্মীকে সবসময় ‘আপ্যায়নের মাধ্যমে নিযুক্ত’ করে রাখতে, যাতে ব্যবসায় খুব লাভ হয়। এমনই ভাবনা থেকে পূর্ব গ্লাস্টারশায়ারে ওই বিশালকায় দফতর নির্মাণ করান তিনি।

কী কী আছে ওই ভবনে? বা বলা ভালো কী নেই! এই দফতরের মধ্যে রয়েছে একটি জিমন্যাসিয়াম, যোগব্যয়ামের স্টুডিও। রয়েছে সিনেমা দেখার জন্য হল। কর্মীরা বিনামূল্যে সপ্তাহের খেলা দেখার সুযোগও পাবেন। আর যখন কর্মীদের পাশে নিয়ে খেলা দেখবেন খোদ মালিক, তখন আর পরোয়া কিসের।

শুধু বর্তমান কর্মীরা নয়, ভবিষ্যত কর্মীদের বিষয়েও যে তাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে, তাও বিলক্ষণ জানেন মর্লিং। তাই তিনি তাদের জন্য বিভিন্ন ভাতার ঘোষণা করেছেন। যেমন- বিভিন্ন মিটিংয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে আইস কেভ, স্কি লজ অথবা কেতাদুরস্ত গ্রন্থাগার।

এমনকি, শৌচাগারেও সঙ্গীতের একটা আবহ রাখা হয়েছে। সেখানে দেওয়ালে রোলিং স্টোনস বা স্টিম পাঙ্কের বিভিন্ন ছবি চিত্রিত রয়েছে। কর্মীরা যদি কাজের মধ্যে ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন, তাহলে রান্নাঘরে বিনামূল্য প্রাতঃরাশ তৈরি। এছাড়া রয়েছে পিনবল মেশিন, প্লে স্টেশন ৪, পুল টেবিল এবং একটি ফুটবল টেবিল।

শুক্রবার কাজ আগে শেষ হলে কর্মীরা দফতরেই বিয়ার-পার্টিতে মেতে উঠতে পারেন। প্রতিমাসে একটি করে সোশ্যাল নাইটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া, কর্মীরা নিজেদের মনোমত শিফটও পছন্দ করতে পারেন।

এখানেই শেষ নয়; কর্মীদের অবকাশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক, বুদাপেস্ট, ডুভরোনিক ও কোপেনহেগেনে কর্মীদের ছুটি কাটানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সব খরচ যে সংস্থা বহন করবে তা বলাই বাহুল্য।

এরপরও কর্মীদের বছরে ৫ লাখ পাউন্ড বেতন দেন মর্লিং। তার ভাষ্য, ‘আপনি কর্মজীবনের অর্ধেকটা অফিসে কাটান। তাই আমি এমন একটা দফতর দিতে চেয়েছি, যা সবাইকে অনুপ্রাণিত করে। একইসঙ্গে, দফতরের পরিবেশ যাতে কর্মীদের মধ্যে কাজের প্রতি ভালোবাসা আনতে পারে, সেটাও মাথায় রাখা হয়েছে।

" data-link="https://twitter.com/intent/tweet?text=%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF+%E0%A6%86%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%97+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8+%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95&url=http%3A%2F%2Fwww.binodonjogot.com%2F2017%2F01%2F21%2F%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%86%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B0%2F&via=">">Tweet
0 Shares
Share.