১ কিঃমিঃ হেটে জীবনের ঝুকি নিয়ে বাল্য বিবাহ বন্ধ করলেন সিরাজদিখান এসিল্যান্ড শাহিনা পারভীন

0

মুন্সীগেঞ্জের সিরাজদিখানে ১ কিঃমিঃ পায়ে হেটে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাল্য বিবাহ বন্ধ করলেন সিরাজদিখান এসিল্যান্ড শাহিনা পারভীন । উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামের মোঃ আক্কেল আলীর কন্যা ময়না আক্তার (১৩) এর বাল্য বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর রবিবার সকাল ১১ টায় এসিল্যান্ড শাহিনা পারভীন বাল্য বিয়ে বন্ধ করে দেন।।

সরেজমিনে দেখা যায়, এসিল্যান্ড শাহিনা পারভীন কনের পিতার নিকট জন্ম নিবন্ধন চাহিলে তারা দিতে গড়িমসি করেন এবং দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন । অতপরঃ কনের পিতা মোঃ আক্কেল আলীকে বিয়ে বন্ধ করতে বলেন এবং আক্কেল আলীকে থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিলে বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি গ্রামের মৃত সিরাজুল হকের পুত্র সালাউদ্দিন এবং পাথরঘাটা গ্রামের মৃত দিল মোহাম্মদের পুত্র আক্কাছের নেতৃত্বে ১০/১২জন পুলিশের নিকট চড়াও হয়ে আক্কেল আলীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় ।

অবস্থা বেগতিক দেখে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করিলে তিনি ইন্সপেক্টর তদন্ত সহ অতিরিক্ত ফোর্স পাঠায় ।অতিরিক্ত পুলিশ দেখে অন্যান্যরা দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং কনের পিতা মোঃ আক্কেল আলী ও একই গ্রামের মৃত মহিরের পুত্র মিলনকে গ্রেফতার করে ।

এসিল্যান্ড নিজ কার্য্যালয়ে আদালত বসিয়ে গ্রেফতারকৃত দুইজনকে ১৫দিন করে পৃথকভাবে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাফিয়া ইকবাল, থানা প্রশাসন,সাংবাদিক ও এলকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ । ময়না আক্তার কোচিয়ামোড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ।

এ প্রসঙ্গে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়ারদৌস হাসান জানান, দুইজনকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন । সালাউদ্দিন ও আক্কাছ সম্পর্কে কোন নির্দেশ না থাকায় তাদের আইনের আওতায় আনা হয়নি ।

এ প্রসঙ্গে এসিল্যান্ড শাহিনা পারভীন জানান, সিরাজদিখানের জনগনের একাংশ বাল্য বিবাহ সম্পর্কে সচেতন নয় ।তাই আমাদের বাধ্য হয়েই বাল্য বিবাহ রোধ করতে হয় । সিরাজদিখান থানা প্রশাসন এ ব্যাপারে সর্বাত্নকভাবে সহযোগীতা করে আসছে এজন্য থানা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি ।

Share.