ফুটপাতে এইচআইভি আক্রান্ত নায়িকা (ভিডিও)

0
রাস্তার থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল নিশাকে

কিছুদিন আগেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে মেয়েদের যৌন হয়রানি হওয়া নিয়ে টুইটারে সরব হয়েছিলেন ভারালক্ষ্মী শরথকুমার। জানিয়েছিলেন, কীভাবে আজও গ্ল্যামারওয়ার্ল্ডে নারীদের যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়। ভারালক্ষ্মীর এই টুইট এখন ভাইরাল হয়ে গেছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে।

ভারালক্ষ্মীর এই টুইটের পরই সামনে এসেছে এক নায়িকার করুণ কাহিনি। যাকে দেহব্যবসায় নামতে বাধ্য করেছিলেন একাধিক পরিচালক এবং প্রযোজক। অথচ নিশা নুর নামে ওই দক্ষিণী অভিনেত্রী তখন দক্ষিণী সিনেমার বিখ্যাত নাম।

কমল হাসান, রজনীকান্তসহ একাধিক শীর্ষ নায়কের সঙ্গে কাজ করেছিলেন নিশা। তামিল, তেলেগু এবং মালায়ালময়ের তিন ভাষার ছবিতেই অভিনয় করতেন তিনি। বালাচন্দ্রণ, ভিশু, চন্দ্রশেখরের মতো তখনকার সময়ে নামী সব পরিচালকের ছবিতে কাজও করেছিলেন।

নিশাকমল হাসান সঙ্গে নিশা

গ্ল্যামার আর বিখ্যাত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ফিল্মি ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছিলেন নীশা। বরাবরই স্বপ্ন দেখতেন কমল হাসান, রজনীকান্তদের সঙ্গে সিনেমা করার। ’৮০ দশকে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখা নিশা ১৯৮৬ সালে ‘কল্যানা আগাথিগাল’, ১৯৯০ সালে ‘আইয়ার দ্য গ্রেট’ এবং ১৯৮১ সালে ‘টিক টিক টিক’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে যথেষ্টই খ্যাতি পেয়েছিলেন নিশা।

এখন নিশা আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় পরে চেন্নাইয়ের রাস্তার ধারে একটি দরগার সামনে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। গ্ল্যামারার্স নিশার চেহারা তখন একেবারেই অস্থি-চর্মসার। মাথা থেকে শরীর সর্বত্র উঁকুনে ভর্তি। ঠিক করে কথাও বলতে পারছিলেন না নিশা।

চেন্নাইয়ের তামাবারামে একটি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। যাবতীয় পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর জানা যায় নিশার শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণব্যাধি এডস।

খ্যাতির শিরোনামে থাকার সময়ই নিশাকে দেহ ব্যবসায় নামতে বাধ্য করেছিলেন কয়েকজন প্রযোজক এবং পরিচালক। দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও জানাজানি হয়ে যায় দেহব্যবসার সঙ্গে নিশার যুক্ত থাকার খবর। এর জেরে নিশার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকার করেন প্রথমসারীর নায়করা। এমনকী, অন্যান্য সব অভিনেতা-অভিনেত্রীও আস্তে আস্তে নিশার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকার করেন। হাতে কাজ না থাকায় আর্থিক অনটনে পড়েন নিশা। এর পরেই আচমকা একদিন নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন।

নিশানিশা নুর

রাস্তা থেকে উদ্ধার হওয়ার সময় নিশার শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। এডসে আক্রান্ত নিশা ২০০৭ সালে মারা যান। ফিল্মি ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া নিশাকে শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই এর মূল্য চোকাতে হয়। নিশার মতো হাল যেন কারোর না হয়, তা আজও নাকি প্রার্থনা করেন অভিনেত্রীরা।

Share.