পাবনায় আলোচিত বিয়ে পাত্র ৮৪ পাত্রী ৪৮

0

পাবনার সুজানগর উপজেলায় ৮৪ বছর বয়সী বরের সঙ্গে ৪৮ বছর বয়সী কনের বিয়ে হয়েছে। বরের নাম আব্দুল মজিদ মন্টু। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা। কনে একই জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর গ্রামের রুশনা খাতুন। তার বয়স ৪৮।

বর আব্দুল মজিদ মন্টুর এটি প্রথম বিয়ে হলেও কনে রুশনা খাতুনের অবশ্য এটি দ্বিতীয় বিয়ে। গতকাল শুক্রবার ধুমধামের মধ্যে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। শনিবার ছিল বউভাত অনুষ্ঠান। তাদের বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট আব্দুল মজিদ মন্টু। বর্তমানে তিনি ও বৃদ্ধ এক বোন ছাড়া সব ভাইবোন মারা গেছেন। তার বাবার নাম মৃত কাজেম শেখ। আর কনে রুশনা খাতুন দুই বোন ও এক ভাই এর মধ্যে সবার ছোট। তার বাবার নাম মৃত কাশেম আলী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে বর আব্দুল মজিদ মন্টু তার নিজ বাড়ি সুজানগর পৌরসভার ভবানীপুর মহল্লা থেকে ২৫ জন বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়ি ইশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে ৪৮ বছর বয়সী কনে রুশনা খাতুনের সঙ্গে ৭৫ হাজার এক টাকা নগদ দেনমোহরে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন।

এ বিয়ের বরযাত্রী হিসেবে সঙ্গে ছিলেন সুজানগর পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল ওহাব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের রোকন, পাবনা জেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত সাধারণ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, সুজানগর এন এ কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম, সুজানগর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সুজানগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বিশ্বাস, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদ্দুজ্জামান মানিক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শামীম আদম লিটনসহ মন্টুর নিকট আত্বীয়-স্বজন।

১৯৫২ সালে ঢাকা বিভাগের অধীনে এসএসসি পাস করা মন্টুর বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে সুজানগর পৌর সদরের বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। বর-কনেকে দেখার জন্য অনেককে নিজ বাড়ির সামনে এবং সুজানগর বাজারের ব্যবসায়ীদের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এর আগে সুজানগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মিলনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বিশাল মোটরসাইকেল বহর ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে তারাবাড়িয়া বাজার থেকে কনেসহ বরকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বর আব্দুল মজিদ মন্টু বলেন, আগে বিয়ে করতে ভয় ভয় করতো। কেন ভয় করতো তা জানি না।

তিনি বলেন, স্বজনরা আমাকে জোর করে একবার বিয়ে দিতে গেলে বিয়ের আসর থেকে পালিয়েছিলাম। তবে দেখলাম বয়স তো শেষ। এখন আর কি করবো। আত্মীয়-স্বজনরাও বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কোনোকিছু না ভেবে তাই বিয়েটা সেরে ফেললাম। আমাদের বিবাহিত জীবন যেন সুখময় হয়, সেজন্য সবার কাছে দোয়া চাই।কনে রুশনা খাতুন বলেন, এটি আমার দ্বিতীয় বিয়ে। কথা বলে মনে হয়েছে আমার বর মন্টু ভাল মনের মানুষ। জীবনের বাকি সময়টুকু তার সঙ্গে কাটাতে চাই।

এদিকে শনিবার ছিল বরের বাড়িতে বউভাত অনুষ্ঠান। বেশ ধুমধাম আয়োজনের মধ্যে বউভাত অনুষ্ঠিত হয়। বউভাত অনুষ্ঠানে পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল হক আরজুসহ সুজানগর উপজেলা, পৌর আওয়ামী লীগ নেতারাসহ বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষিরা উপস্থিত ছিলেন।সুজানগর পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল ওহাব বলেন, সুজানগর উপজেলায় সর্বপ্রথম থেকে যে দুই-তিনজন ব্যক্তি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তার মধ্যে আব্দুল মজিদ মন্টু অন্যতম। বর্তমানে তিনি সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মানিত সাধারণ সদস্য। এর আগে তিনি সুজানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ত্ব পালন করেছেন।

Share.