তিন টাইগারের জন্য দারুণ জয়

0

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় প্রাইম ব্যাংক সাউথ জোন ও ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোন। ইস্ট জোনকে ইনিংস ও ৪৪ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে মোস্তাফিজ-রুবেল-রাজ্জাক-গাজী-নাফীস-বিজয়-মিঠুনদের নিয়ে গড়া সাউথ জোন। টাইগার পেসার রুবেল হোসেন আর কাটার মাস্টার মোস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ফলোঅনে পড়া ইস্ট জোন তৃতীয় দিন রাজ্জাকের বোলিং ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে গুটিয়ে যায়।

ভারত সফরের স্কোয়াডে রাখা হয়নি মোস্তাফিজ-রুবেলকে। তাদের আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনায় টাইগার এই দুই পেসারকে খেলানো হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে। নিজেদের শুরুর ম্যাচেই জ্বলে উঠেন দুই টাইগার পেসার।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলমান বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে দক্ষিণাঞ্চল অলআউট হওয়ার আগে তোলে ৪০৩ রান। জবাবে, ব্যাটিংয়ে নেমে রুবেল-মোস্তাফিজ আর সোহাগ গাজীর বোলিং তোপে ইস্ট জোন ১৪৪ রানেই অলআউট হয়। ফলোঅনে পড়া ইস্ট জোন আবারো ব্যাটিংয়ে নেমে বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তৃতীয় দিনের খেলা অর্ধেকেরও বেশি বাকি থাকতেই ২১৫ রানে অলআউট হয় ইস্ট জোন।

শনিবার দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ইস্ট জোনের বিপক্ষে মাঠে নামে দক্ষিণাঞ্চল। আগে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে উদ্বোধন করতে নামেন শাহরিয়ার নাফীস এবং ফজলে মাহমুদ। নাফীস ২৭ রানে বিদায় নেন, ফজলে মাহমুদের ব্যাট থেকে কোনো রানই আসেনি। তিন নম্বরে নামা আনামুল হক বিজয়ের ব্যাট থেকে আসে ৮৯ রান। তার ১১৬ বলের ইনিংসে ছিল ১২টি চার আর দুটি ছক্কার মার। ৬২ রান করেন তুষার ইমরান। আর ৪৭ রানে বিদায় নেন মোহাম্মদ মিঠুন।

এছাড়া, মোসাদ্দেক হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ৩৯ রান। দিন শেষে দারুণ জুটি গড়েন সোহাগ গাজী আর জিয়াউর রহমান। ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন জিয়া আর ৪২ রানে অপরাজিতে থেকে দ্বিতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নামেন সোহাগ গাজী। দ্বিতীয় দিন নিজের নামের পাশে আর ৪ রান যোগ করে ব্যক্তিগত ৪৬ রান করে বিদায় নেন গাজী। জিয়া করেন ৭২ রান। দলপতি আবদুর রাজ্জাকের ব্যাট থেকে আসে ৫ রান।

ইস্ট জোনের পেসার ইবাদত হোসেন তিনটি উইকেট তুলে নেন। দুটি করে খালেদ আহমেদ এবং আবুল হাসান। একটি করে উইকেট পান সাকলাইন সজীব, শাহানুর রহমান এবং তাসামুল হক।

ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৪ রানে গুটিয়ে যায় ইস্ট জোনের ইনিংস। সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন আবুল হাসান। এছাড়া, ৪২ রান আসে ইয়াসির আলির ব্যাট থেকে। জাকির হাসান করেন ১৯ রান। এছাড়া, মেহেদি মারুফ, ইরফান শুকুর, তাসামুল হক, অলোক কাপালি, সাকলাইন সজীব কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।

সাউথ জোনের হয়ে ১০ ওভারে ২২ রান খরচায় ৫টি উইকেট তুলে নেন রুবেল হোসেন। মোস্তাফিজ ৯ ওভারে ৩২ রান খরচায় নেন দুটি উইকেট। কাটার মাস্টার নিজের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেন। সোহাগ গাজী ১০ ওভারে ৩৯ রানের বিনিময়ে নেন দুটি উইকেট। বাকি উইকেটটি নেন আবদুর রাজ্জাক।

ফলোঅনে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপর্যয় কাটাতে পারেনি ইস্ট জোনের ব্যাটসম্যানরা। ইরফান শুকুর ২৭ রানে, মেহেদি মারুফ ০, জাকির হাসান ১২, তাসামুল হক ৪, ইয়াসির আলি ১৬ রানে বিদায় নেন। দ্বিতীয় দিন শেষে ১০ রানে অপরাজিত থাকা অলোক কাপালি শেষ পর্যন্ত করেন ৪৮ রান। শাহানুর রহমান ৭ রানে সাজঘরে ফেরেন। ইনিংস সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন আবুল হাসান। ২৬ রান আসে সাকলাইন সজীবের ব্যাট থেকে।

সাউথ জোনের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে রাজ্জাক ৬টি উইকেট তুলে নেন। সোহাগ গাজী পান দুটি উইকেট। একটি উইকেট তুলে নেন রুবেল। আর মোস্তাফিজ কোনো উইকেট পাননি।

Share.