ওরে বাবা ভূত

0

সত্যিই কি আমাদের চারপাশে ভূত বা অশরীরি কিছু ঘুরে বেড়ায়? বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা প্রতিনিয়তই এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও মাঝে মধ্যেই কিন্তু এমন কিছু ঘটে যা বিজ্ঞানের যুক্তিতর্ক দিয়েও মীমাংসা করা যায় না। সেগুলো ভূতুড়ে কাণ্ড হিসেবে থেকে যায়। সম্প্রতি তেমনই দুটি ঘটনা ঘটেছে। এর একটি ফ্রান্সে, অন্যটি যুক্তরাজ্যে।

কুকুরের কৃত্রিম জিভ, নাক আর কান লাগিয়ে স্ন্যাপচ্যাটে দেওয়ার জন্য একটি মজাদার ভিডিও তৈরি করতে গিয়েছিলেন এক ফরাসি তরুণী। মাত্র ১০ সেকেন্ডের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মোবাইলের স্ক্রিনে হঠাৎ অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পেলেন তিনি। যে কক্ষে তিনি ভিডিও করছিলেন সেখানে কেউই ছিল না। অথচ মোবাইলের ভিডিও স্ক্রিনে তার ঠিক পাশেই আরও দুটি কুকুরের কান ও একটি নাক ভাসতে দেখলেন তিনি। নিমিষেই তরুণীর হাসিখুশি মুখে ভয় দেখা দিল। তার পাশে কোনো ভূত এসে দাঁড়িয়েছে এমনটা ভেবে ভয়ে আঁতকে উঠলেন তিনি।

ভূতুড়ে কাণ্ড

সেই ভূতুড়ে কাণ্ড দেখার পর তরুণীটির বিস্মিত চেহারা।

যুক্তরাজ্যে তেমনই এক ভূতুড়ে কাণ্ড দেখা গেল কিছু দিন আগে জনপ্রিয় স্যাটেলাইট চ্যানেল স্কাই স্পোর্টসের পর্দায়। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলে এভারটন ও সান্ডারল্যান্ড লড়াইয়ের আগে ম্যাচটির সম্ভাব্য ফল বিশ্লেষণ করছিলেন দুই ব্রিটিশ ফুটবল পণ্ডিত ও সাবেক খেলোয়াড় ফিল নেভিল ও জেমি কারাঘের। অনুষ্ঠানটি লাইভ দেখানো হচ্ছিল স্টেডিয়ামের ব্রডকাস্টিং বক্স থেকে। সেই সময় পুরো স্টেডিয়ামই শূণ্য ছিল। মাঠে ছিলেন গুটিকতেক গ্রাউন্ডসম্যান।

হঠাৎ ফিল নেভিলের পিছনে মাঠের অংশে কালো ধরনের এক ছায়ামূর্তি ধরা পড়ল টেলিভিশনের পর্দায়। সেই ছায়ামূর্তিকে নিমিষের মধ্যে মাঠের একস্থান থেকে আরেকস্থানে দেখা যেতে লাগলো। স্বাভাবিক কোনো মানুষের পক্ষে এতটা দ্রুত ওত বড় মাঠের একপাশ থেকে আরেকপাশে যাওয়া সম্ভব নয়। স্বাভাবিকভাবেই দর্শকরা টেলিভিশনের লাইভ প্রোগ্রামে ভূত দেখতে পাচ্ছেন ভেবে শিহরিত হয়ে উঠলেন। তাদের বিস্ময়ের পরিমাণ আরও বেড়ে গেল যখন হঠাৎ সেই ছায়ামূর্তিকে বাতাসে উধাও হয় যেতে দেখা গেল।

নেভিল কিংবা কারাঘের অথবা ক্যামেরা ক্রু’রা ঘটনাটি বুঝতে পারেননি। তবে দর্শকরা তা ঠিকই খেয়াল করেছেন। আর তাই তো মিনিট কয়েকের মধ্যে এ নিয়ে একের পর এক টুইট ভেসে উঠতে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় সাইট টুইটারে। এই রহস্যের মীমাংসা এখন পর্যন্ত করা যায়নি।

উপরোক্ত দুটি ঘটনাই ঘটেছে গত সপ্তাহে। ওই দুই ঘটনার পর ভূত নেই বলে যারা জোর গলায় দাবি করতেন তারাও যেন খানিকটা আত্মবিশ্বাস হারিয়েছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনের পর্দায় লাইভ প্রোগ্রামে ভূতুড়ে কাণ্ড দেখার পর তারাও কোনো ব্যাখা দিতে পারছেন না। আর যারা আগে থেকেই ভূত বিশ্বাস করতেন তারা এবার জোর গলায় ভূতের অস্তিত্ব ঘোষণা করতে শুরু করেছেন।

ভূতুড়ে কাণ্ড

স্কাই স্পোর্টসে লাইভ ম্যাচ বিশ্লেষণের সময় ফিল নেভিলের পিছনে বিভিন্ন মুহূর্তে ধরা পড়ে সেই রহস্যময় ছায়ামূর্তি (গোলচিহ্নিত)।

অবশ্য এমন জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ দেখার পরও যারা ভূতে বিশ্বাসী নন তারা এ দুটি বিষয়কেই বিজ্ঞানের যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। তাদের দাবি, মূলত আলো-ছায়ার কারণে এমনটা ঘটেছে। আলোক রশ্নি কোনো কারণে বিশেষভাবে বেঁকে যাওয়ায় দৃষ্টিভ্রম হয় মানুষের। সেই সময়টায় নানা রকম আকার-আকৃতি চোখের সামনে ভেসে উঠতে পারে। যা অনেকেই ভূত ভেবে ভুল করেন।

যারা এমন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে বিষয়টির মীমাংসা করতে চাচ্ছেন তাদের অনেকেই ওই ফরাসি তরুণীকে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ‘আপনার উচিত আপনার ছবিতে পিছনের যে সেলফ দেখা যাচ্ছে তাতে বিদ্যমান বইগুলো সরিয়ে নতুন করে ভিডিও করা । সম্ভবত ওই বইগুলো থেকে আলোর প্রতিফলন ঘটায় মোবাইলের স্ক্রিনে এমন অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়েছে।

তবে যুক্তিবাদীদের এমন যুক্তিতে মন ভরছে না ভূত বিশ্বাসীদের। উপরের দুটি ঘটনাতেই যে কোনো না কোনো ভূতের (!) উপস্থিতি ছিল তেমনটাই বিশ্বাস তাদের। এমনকি কেউ কেউ দাবি করেছেন যে মোবাইলে ছবি বা ভিডিও তোলার ক্ষেত্রে তাদের অনেককেই এমন ভূতড়ে কাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে।

এদিকে, মোবাইলের বিষয়টিতে কিছু একটা ব্যাখ্যা বা মীমাংসার চেষ্টা চললেও স্কাই স্পোর্টসের সেই ভূতের ব্যাপারে সবাই নিশ্চুপ। এমনকি যুক্তিবাদীরাও এই বিষয়ে বলার মতো কিছু খুঁজে পাচ্ছেন না।

যদি এই রহস্যগুলো ভেদ না করা যায়, তাহলে কি ধরে নিতে হবে সত্যিই এই পৃথিবীতে ভূতদেরও বসবাস রয়েছে, প্রশ্নটা ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে সবার মনেই।

Share.