এ যেন এলাম, দেখলাম, জয় করলাম !!!

0

বিশ্বে সবচেয়ে কম সময়ে ধনীদের কাতারে ১০ নম্বরে আসা ব্যক্তি নিশ্চয়েই জুকারবার্গই হবেন। জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করে সারাবিশ্বে যোগাযোগ ক্ষেত্রে এনেছেন ব্যপক পরিবর্তন। মাত্র ২০ বছর বয়সেই জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক চালু করে ১০ বছরেই বিশ্বের ৬ষ্ঠ ধনাঢ্য ব্যক্তি।

জুকারবার্গের পুরো নাম মার্ক এলিয়ট জুকারবার্গ। ১৯৮৪ সালের ১৪ মে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের হোয়াইট প্যালেসে জন্মগ্রহণ করেন। পেশায় এক কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও সফটওয়্যার ডেভেলপার।

১৯৮৪ সালের ১৪ মে নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইনে মনোচিকিৎসক ক্যারেন ও দন্তচিকিৎক এডওয়ার্ড জাকারবার্গের ঘরে জন্ম নেন মার্ক জাকারবার্গ। জুকারবার্গের তিন বোন রয়েছে, রয়ান্ডি, ডোনা এবং এরিএল।

আর্ডসেলি হাই স্কুলে জাকারবার্গ গ্রিক এবং ল্যাটিন ভাষায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। কিছুদিন পরই ফিলিপস এক্সটার একাডেমিতে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বিজ্ঞান এবং ক্লাসিক্যাল শিক্ষায় বেশ সাফল্য পান, ঝুলিতে জমে পুরস্কারও। তিনি অসিক্রীড়া তারকা ছিলেন এবং অসিক্রীড়া দলের অধিনায়কও ছিলেন। কলেজে তিনি মহাকাব্যিক কবিতা আবৃত্তির জন্যও পরিচিত ছিলেন।

কলেজ পার করে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। এরপরের গল্প রূপকথা। ২০০৪ সালে বন্ধুদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট ফেসবুক।

বর্তমানে বিশ্বে ফেসবুক ব্যবহারকারী ১.৪৯ মিলিয়ন এর উপরে। ইন্টারনেটের আর কোনো সামাজিক মাধ্যম এত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। ২০০৭ মালের মধ্যে জুকারবার্গ আর্থিক বিত্তের পরিমাপে পরিগণিত হয়ে যান বিলিয়নেয়ারে। ২০১০ সালে টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে তিনি বিশ্বের প্রভাবশালী এবং অর্থবিত্তসম্পন্ন ১০০ জনের মধ্যে নিজের স্থান করে নেন। ২০১৫ সাল পর্যন্ত তার সম্পদ ছিল ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

অথচ, এই ফেসবুক শুরুতে শুধু হার্ভার্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল। তখন হার্ভাডের ছাত্র-ছাত্রীরাই শুধু এটির ব্যবহার করতে পারতো। প্রথমদিকে নাম ছিল ‘দ্য ফটো এড্রেস বুক’। এটি ছিল অনেকটা শিক্ষার্থীদের ডাইরেক্টরি’র মতো। এতে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের নাম, ফোন নাম্বার, তাদের বন্ধুদের নাম, পাঠরত বিভাগের নাম ইত্যাদি লিখে রাখতে পারতেন।

ছাত্র-ছাত্রীরা এর নাম রেখেছিল ‘দ্য ফেসবুক’। পরে ‘দ্য’ বাদ দিয়ে এর নাম হয়ে যায় ‘ফেসবুক’।

সময়টা ছিল ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। হার্ভাডের এক ডরমিটরিতে তিনি প্রথম ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেন। পরে যখন ফেসবুক অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝেও ছড়িয়ে দেয়া হয় তখন ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আলটোতে ফেসবুকের অফিস স্থানান্তর করা হয়।

তারপর থেকে ফেসবুকের ইতিহাস বিজেতার ইতিহাস, সাফল্যের ইতিহাস! এ যেন ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম!’

Share.